বাংলাদেশ
এনআরবিসি ব্যাংকে অনিয়মের অভিযোগ: পুরোনো গোষ্ঠীর পুনরায় সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা

বেসরকারি এনআরবিসি ব্যাংক ঘিরে আবারও নিয়ন্ত্রণ দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংকটির একাধিক সূত্র ও কিছু পরিচালকের দাবি, অতীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় থাকা একটি গোষ্ঠী নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে একটি অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসা তৌফিক রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি গোষ্ঠী পুনরায় ব্যাংকের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে শফিকুল আলম মিথুন ও ফজলুর রহমান তারেকসহ আরও কয়েকজনের নামও বিভিন্ন সূত্রে আলোচনায় এসেছে। আর এর পেছন থেকে কাজ করছে জুলাই গণহত্যা মামলার আসামি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান তমাল পারভেজ।
ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একই ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের অর্থ ব্যবহার করে শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি কৌশল নেওয়া হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ২০২২ সাল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব ব্যক্তি ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিল, সেসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক ফরেনসিক অডিট প্রতিবেদনেও কিছু পুরোনো নাম পুনরায় উঠে এসেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
অভিযোগকারীরা আরও জানান, সাবেক চেয়ারম্যান পারভেজ তমাল, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মিয়া আরজু, আদনান ইমাম, ফারাসাত আলী, তৌফিক রহমান চৌধুরী, ফজলুর রহমান তারেক, সারওয়ার জামান চৌধুরী, লোকিয়াতুল্লাহ, মোহাম্মদ আলী মামুন, মোহাম্মদ নাজিমসহ আরও কয়েকজনের নাম বিভিন্ন তদন্তে এসেছে বলে তারা উল্লেখ করছেন।
এছাড়া ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে হারুনুর রশিদ, কবির আহমেদ, সাফায়েত কবির কানন, হাফিজ ইমরোজ মাহমুদ, তনুশ্রী মিত্র, মইনুল হোসেন কবির, দেলোয়ার হোসেন, ফরহাদ সরকারসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে বিভিন্ন সূত্রে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অনিয়মের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একইসঙ্গে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন তারা।
শেয়ার
Releted News
বিজ্ঞাপন কর্নার।






