বাংলাদেশ
বিটিভিকে কাদের হাতে তুলে দিলো তথ্য মন্ত্রণালয়?

বাংলাদেশ টেলিভিশনে এমন সুপরিকল্পিত ছকে আওয়ামীপন্থীদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে যে অনেকের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, তথ্য মন্ত্রণালয়ের চালিকা শক্তি কে, বিএনপি না আওয়ামী লীগ?
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, মহাপরিচালকের নিচের ধাপে তিন উপমহাপরিচালক ও তার নিচের ধাপে ছয় পরিচালক পদে যারা রয়েছেন,তারা কেউই বিএনপিপন্থী তো ননই, বরং সাম্প্রতিক কয়েক মাসে যাদের বসানো হয়েছে তারা ‘পরীক্ষিত আওয়ামীপন্থী’ কর্মকর্তা। অথচ সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিটিভির কৌশল গ্রহণ ও বাস্তবায়ন এই পদের কর্মকর্তাদের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে এই কর্মকর্তাদের দিয়ে বিটিভিকে একটি মানসম্পন্ন জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলে জনকল্যাণে কাজে লাগানো কতখানি সম্ভব হবে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যখন ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন এবং জনরায় বিএনপির পক্ষে যাবে- এমনটি স্পষ্ট হয়ে উঠে তখনই তথ্য মন্ত্রণালয় বিটিভিকে আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেয়ার কাজ শুরু করে।
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ দিকে বিটিভির পরিচালকের (অনুষ্ঠান ও পরিকল্পনা) শূন্য পদে বিটিভির নিজস্ব কর্মকর্তাদের পদোন্নতি বা চলতি দায়িত্ব না দিয়ে বেতার থেকে প্রেষণে আজগর আলীকে বসানো হয়। ২০০৯ সালে বিটিভির নিজস্ব কর্মকর্তাদের সরিয়ে বেতার থেকে এনে যেসব পরীক্ষিত আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তার হাতে বিটিভি অনুষ্ঠান শাখার কর্তৃত্ব তুলে দেয়া হয়েছিল, আজগর আলী তাদেরই একজন। আওয়ামী লীগের প্রায় পুরোটা সময় তিনি বিটিভিতে ছিলেন এবং পদোন্নতি পেয়ে একসময় বেতারে ফিরে গিয়েছিলেন। ২০০৯ সালে বিটিভি সংবাদ শাখায় বেতার থেকে এনে যাঁদের বসানো হয়েছিল, তাদের আরেক এক মাহবুবুর রহমান। তিনি একসময় উচ্চ শিক্ষার্থে বিদেশ যান এবং পরে দেশে ফিরে বেতারে যোগ দেন।
নির্বাচনের চার মাস আগে তাঁকে বসানো হয়েছে বিটিভির পরিচালক (আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান ও লিয়াজো) পদে। একইভাবে আওয়ামী লীগ সময় থেকে বিটিভিতে কাজ করা মঈনুল রহমান মোল্লা পদোন্নতি পেয়ে বেতারে ফিরে গিয়েছিলেন। সম্প্রতি তাঁকে পরিচালক (উন্নয়নমূলক অনুষ্ঠান) পদে বসানো হয়েছে। একই ছকে উপমহাপরিচালক (অনুষ্ঠান) পদে কয়েক মাস আগে বসানো হয় বেতারের অনুষ্ঠান শাখার পরিচালক ফখরুল আলমকে।
বিটিভির সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, বিটিভি কর্তৃপক্ষের মতামতের তোয়াক্কা না করেই মন্ত্রণালয় এসব পদায়ন করেছে।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে, বিটিভিতে আওয়ামী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় মূল ভূমিকা পালন করছেন তথ্য সচিবের সবচেয়ে কাছের দুই যুগ্ম সচিব। তবে সচিবের সম্মতিতেই সবকিছু হয়েছে। এই তিন কর্মকর্তা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে জুলাই বিপ্লবের পক্ষে অনেক কথা বললেও কাজ করেছেন আওয়ামী স্বার্থ মাথায় রেখে। যে কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বর্তমান তথ্য সচিবকে ‘আওয়ামীপন্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। এই তিন কর্মকর্তার কারসাজিতে শুধু বিটিভি নয়, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে এখন নজিরবিহীন অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
আজকাল/৮এপ্রিল২৬/জেড
শেয়ার
Releted News
বিজ্ঞাপন কর্নার।






