খেলা

ভারতে যাচ্ছে না বাংলাদেশ, আইসিসির সামনে কী কী উপায় খোলা?

টুর্নামেন্ট শুরু হতে বাকি মাত্র এক মাস। এমন সময়ে বাংলাদেশের অনুরোধের প্রেক্ষিতে আইসিসি কী করতে পারে? নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কী করার আছে?
17675980282141434.jpg
ভারতে যাচ্ছে না বাংলাদেশ, আইসিসির সামনে কী কী উপায় খোলা? | ফাইল ছবি

স্পোর্টস ডেস্ক

৫ জানুয়ারী, ২০২৬
Fallback Advertisement

নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার কথা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল আইসিসিকে লেখা চিঠিতে ভেন্যু বদলানোর অনুরোধও করেছে বাংলাদেশ। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে শুরু হবে ২০২৬ আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ২০ দলের এই টুর্নামেন্টে ভারত প্রথম যে ম্যাচটি আয়োজন করবে, সেটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হওয়ার কথা বাংলাদেশের।

 

শুধু প্রথমটিই নয়, সূচি অনুযায়ী গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের চার ম্যাচের সব কটিই ভারতে। তিনটি কলকাতায়, একটি মুম্বাইয়ে। প্রশ্ন হচ্ছে, টুর্নামেন্ট শুরু হতে বাকি মাত্র এক মাস। এমন সময়ে বাংলাদেশের অনুরোধের প্রেক্ষিতে আইসিসি কী করতে পারে? নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কী করার আছে? মোটাদাগে আইসিসির সামনে চারটি পথ খোলা।

 

প্রথমত, বাংলাদেশের ‘দাবি’ মেনে নেওয়া

এ ক্ষেত্রে টুর্নামেন্টের মূল কাঠামো ঠিক রেখেই বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে পারে আইসিসি। বিশ্বকাপের মূল কর্তৃপক্ষ হিসেবে সংস্থাটির যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আছে। বাংলাদেশের অনুরোধ রাখা হলে আইসিসিকে তখন লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে। এ ক্ষেত্রেও জটিলতা কম নয়।

বাংলাদেশের সঙ্গে ‘সি’ গ্রুপে আরও ৪টি দল আছে। বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিলে ওই দলগুলোকেও সেখানে যেতে হবে। আবার প্রতিটি দলের সব ম্যাচ তো শ্রীলঙ্কায় হবে না, কারণ প্রতি দিন দুই থেকে তিনটি করে ম্যাচ রাখা হয়েছে। সম্প্রচারের বিষয় এখানে জড়িত।

 

আর গ্রুপের অন্যান্য দল যদি শুধু বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের জন্যই শ্রীলঙ্কায় যায়, সে ক্ষেত্রে ভারতের মাটিতে তাদের নিজেদের মধ্যকার ম্যাচের সূচিও জটিল হয়ে উঠবে। ধরা যাক, বাংলাদেশ খেলবে কলম্বোয়। ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালি সেখানে বাংলাদেশের সঙ্গে খেলবে। ইউরোপীয় দলটির পরের ম্যাচই ১২ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে। মাঝে যাতায়াত ও প্রস্তুতি মিলিয়ে সময় মাত্র দুই দিন। সমস্যা শুধু গ্রুপ পর্বেই নয়, প্রভাব পড়বে পুরো টুর্নামেন্টের সূচিতেই। আর বাংলাদেশ যদি সুপার এইটে ওঠে, তাহলে জটিলতা আরও বাড়বে।

 

দ্বিতীয়ত, প্রত্যাখ্যান ও ওয়াকওভার-প্রস্তুতি

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অনুরোধে সাড়া না দিয়ে প্রত্যাখ্যান করা। এরপর বাংলাদেশ যদি ভারতে না খেলার ব্যাপারে অনড় থাকে, আইসিসিকে ‘ওয়াকওভারের’ পথে হাঁটতে হবে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের ম্যাচগুলোতে প্রতিপক্ষ দলকে জয় উপহার দেওয়া। এ ধরনের ঘটনায় টুর্নামেন্ট কার্যত ১৯ দলের হয়ে পড়বে। শুরুর আগেই টুর্নামেন্ট আকর্ষণ হারাবে অনেকটাই।

 

বিশ্বকাপের ইতিহাসে অবশ্য ওয়াকওভারের একাধিক ঘটনা আছে। ১৯৯৬ বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে শ্রীলঙ্কায় যায়নি অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০০৩ বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে জিম্বাবুয়েতে যায়নি ইংল্যান্ড, কেনিয়ায় যায়নি নিউজিল্যান্ড। ওই সব ম্যাচে প্রতিপক্ষকে ‘অ্যাওয়ার্ডেড’ বা জয়ের পয়েন্ট দিয়েছিল আইসিসি। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন।

 

কারণ, ওই টুর্নামেন্টগুলোর মতো এবারও একাধিক আয়োজক থাকলেও বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ শুধুই ভারতে। অর্থাৎ ভেন্যু না বদলালে আর বাংলাদেশও সিদ্ধান্ত অনড় থাকলে কোনো ম্যাচই খেলার সুযোগ নেই।

 

তৃতীয়ত, বিকল্প দলের ব্যবস্থা

বাংলাদেশকে কঠোর বার্তা দিতে পারে আইসিসি। ‘পূর্ব সূচি অনুসারে খেললে খেলো, না খেললে তোমরা বাদ’—এমন কড়া অবস্থানে যেতে পারে। বাংলাদেশও তখন নাম প্রত্যাহার করে নিলে আইসিসিকে অন্য একটি দেশকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তবে সময় স্বল্পতায় এটি বাস্তবায়ন অনেকটাই কঠিন। কারণ, বিকল্প দলের যোগ্যতা, ভ্রমণের প্রস্তুতিসহ অনেক বিষয়ই এখানে জড়িত। ২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে জিম্বাবুয়ে সরে যাওয়ায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার নজির আছে। তবে হাতে সময় ছিল তখন। জিম্বাবুয়ে নিজেদের সরিয়ে নেয় ২০০৮ সালের জুলাইয়ে, টুর্নামেন্ট হয়েছে পরের বছরের জুনে। মাঝে জিম্বাবুয়ে সরে যাওয়ার পরের সহযোগী দেশগুলোর বাছাই নির্ধারিত ছিল। যেখান থেকে তৃতীয় দল হিসেবে স্কটিশদের বেছে নেওয়া হয়।

 

চতুর্থত, ভারতকে দিয়ে বাংলাদেশকে নমনীয় হতে বোঝানোর উদ্যোগ গ্রহণ

ভারতীয় ক্রিকেট পোর্টাল ক্রিকবাজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ শুরু হতে মাত্র এক মাস বাকি থাকায় সূচিতে বড় পরিবর্তন আনা প্রায় অসম্ভব বলে বিসিসিআই বিসিবিকে বোঝানোর চেষ্টা করতে পারে। যেহেতু গ্রুপ সি'তে বাংলাদেশের সঙ্গে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো বড় দলগুলো রয়েছে, এক দলের ভেন্যু পরিবর্তন করলে পুরো টুর্নামেন্টের সূচিতেই এর প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশ যদি সুপার এইট নিশ্চিত করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।

 

ক্রিকবাজের সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী দুই দিন আইসিসি কর্মকর্তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বৈঠক চলবে। আইসিসি মনে করছে, এটি মূলত বিসিসিআই ও বিসিবির দ্বিপক্ষীয় বিষয় এবং শেষ মুহূর্তে নিজেদের এতে জড়ানো উচিত নয়। তবে তারা তড়িঘড়ি কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিসিবিকে বর্তমান সীমাবদ্ধতাগুলো বুঝিয়ে বলবে।

আজকাল/৫জানুয়ারি২৬/আজা

শেয়ার

Releted News

test

বিজ্ঞাপন কর্নার।

সম্পাদক ও প্রকাশক : শাহ্‌ নেওয়াজ
ফোন: +1646 267-7751 ফ্যাক্স: 718-865-9130
ঠিকানাঃ 71-16 35th Ave, Jackson Heights, NY 11372, USA.
ইমেইল: ajkalnews@gmail.com , editor@ajkalusa.com
কপিরাইট © ২০২৪ সাপ্তাহিক আজকাল কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত
অনুসরণ করুন
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Developed With Love ByFlixza Global